নির্বাচিত স্ট্যাটাস

বাংলাদেশ হেরে গেল। আমি বাসা থেকে বেরুলাম। অফিস যাব। হঠাৎ চারপাশ কাঁপিয়ে ফুটে উঠলো বাজি। পাশ দিয়ে দুজন তরুণ কথা বলতে বলতে যাচ্ছিল- জিতলে বাজি ফুটাইবো, এইটা ঠিক করসিলো।
আর অহন হাইরা গিয়া কেন ফুটাইতাসে?
টাকা দিয়ে কিনসে, ফালায় রাইখা নষ্ট করবো?

আসল কারণটা আমি জানি। এই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় খুশি হবার লোকের তো অভাব নেই, তাদেরই কোন অংশ বাজি ফুটাচ্ছে। আমি দেখতে পাচ্ছি- একদল বলছে, ম্যাচ হাইরা অখন রেফারির দোষ। বালের ক্রিকেট খেইলা ওয়ার্ল্ড কাপ?

সত্যটা হলো, রোহিত আর রায়নার আউট দুটো নিশ্চিত ছিল। ২য়টা নিয়ে কোন সহৃদয় ইন্ডিয়ান সাপোর্টার কি তর্ক করার সাহস রাখেন? আর মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ ধরার সময় ধাওয়ানের পা বাইন্ডারি রোপ টাচ হয়ে ছিলনা, এটা বলার সাহস কে রাখে?
কতোটা নির্লজ্জ হলে এইভাবে জোচ্চুরি চলে?
এই নির্লজ্জের একাংশ আমার বাংলাদেশেও আছে ক্যানসার সেলের মত।
দুঃখটা সেখানেই বেশি।
শান্তিতে মরুণ টিম ইন্ডিয়া এন্ড আইসিসি গং।
শান্তিতে মর বাংলাদেশে বাস করা ওইসব জারজেরা, যারা আজকে আনন্দ লুকিয়ে হাটে,ঘাটে মাঠে ঘুরে ঘুরে গাইছো- চাক দে ইন্ডিয়া..

১৯ মার্চ, ২০১৫।

———————-

অতি আনন্দে সাধারণত আমি কিছু লিখিনা। মূল কারণ আসলে লিখতে পারিনা। হাত কাঁপে, আনন্দের তোড়ে চোখে পানি চলে আসে। বাংলাদেশ খানিক আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গিয়েছে।
আমি বাসা থেকে অফিস এসেছি আনন্দে কাঁপতে কাঁপতে। রাস্তায় বিশাল পতাকা নিয়ে তরুণেরা বিজয়মিছিল করছে। বয়ষ্করা সেটির দিকে তাকিয়ে আছেন প্রশ্রয়মাখা বিরক্তি নিয়ে।

২০১১’র বিশ্বকাপেও যখন এমন একটা দিন এসেছিলো, মনে আছে দলবেঁধে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলাম। মিরপুর বারো থেকে দুই নম্বরে ক্রিকেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম দৌড়ুতে দৌড়ুতেই। অথচ খেলাটা হয়েছিল চট্টগ্রামে।

এই আনন্দমিছিল আজও চলছে। অফিসে এসে পৌছুতেই শিফট লিডার বললেন- সরাসরি অস্ট্রেলিয়া থেকে আসলা ম্যাচ জিতিয়ে?
আমি গদগদ কন্ঠে বললাম- হ্যাঁ। আমরা সারা বাংলাদেশ চলে গিয়েছিলাম সেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পারে।

ওই এগারোজন নিজেদের বুকে করে বাংলাদেশ নিয়ে গেছে। আর আমরা আমাদের বুকেও ধারণ করি গোটা বাংলাদেশ। এই আনন্দ কোথায় রাখি?

০৯ মার্চ, ২০১৫।

————————- 

একটা পানিশুন্য জগ কখনই তার সামনে থাকা গ্লাসগুলোকে ভরতে পারেনা। লেখকরাও ওই জগের মত। তারা পূর্ণ হয়ে ওঠেন পড়তে পড়তে।

১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫।

————————————–

-নরক কি?
-ভালবাসতে না পারার অক্ষমতাই নরক।
ফিওদর দস্তয়ভস্কি আজন্ম প্রমাণ করে গেছেন নিজের এই বাণী।

ফেব্রুয়ারি ৩,  ২০১৫।

———————————– 

হৃদয় বিষন্ন হলেই তা বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। চেনা বিষন্নতা নয়, জীবনের গভীর বোধের দিকে আমাদের টেনে নিয়ে যায়- এমন বিষন্নতা।

ফেব্রুয়ারি ১,  ২০১৫।

———————————- 

কুকুরেরা খাম্বা বা গাছের গোড়া দেখলে উদাস হয়ে যায়। বাঙালি পুরুষেরা উদাস হয় নারী দেখলে। সৌন্দর্য্য দেখে উদাস হওয়ার ষোলোপদী বিপদ আছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০১৫।

——————————– 

অশ্লীলতার দায়ে জীবনানন্দ নিজেও জীবদ্দশায় বারবার অভিযুক্ত হয়েছেন। তার রাত্রি কিংবা ক্যাম্পে কবিতার কথা ভুলে গেলে চলবেনা। ফেনার সেমিজ, স্তন, জঙ্ঘা, কিংবা হাইড্র্যান্ট খুলে দিয়ে কুষ্ঠরোগি চেটে নেয় জল, কিংবা তার পাখির নিড়ের মত দুটি চোখ, এইসব ছিলো সেই আমলে তুমুল অশ্লীলতা। আজ আমরা জীবন বাবুকে বলি হেমন্তের কবি।
সাইয়েদ জামিল আর প্রথম আলোর বিচারক প্যানেল হয়তো এইসব চিন্তা করেছে। আরে, কবি তো যুগের চেয়ে এগিয়ে আছে! পঞ্চাশ বছর পর সাইয়েদ জামিলরে নাহয় সবাই বলবে চো**চু”র কবি।
এইখানে সমস্যাটা কোথায়?

জানুয়ারি ২৭, ২০১৫।

——————————— 

এ জগতে পিতৃপরিচয়হীন কোনো বই কি আছে? আছে একেবারে অনাথ কোনো গ্রন্থ? এমন কোনো বই আছে যে অন্য কোনো বইয়ের বংশধর নয়? বইয়ের একটিমাত্র পাতা, সেটিও কি মানব জাতির সাহিত্যচিন্তার মহাবৃক্ষের চারা নয়? ঐতিহ্যবিহীন সৃষ্টি কি আছে? তেমনি আবার নবায়ন ছাড়া ঐতিহ্য টিকে থাকতে পারেনা। বৃক্ষে নতুন পত্র উন্মেষের দরকার আছে।

-কার্লোস ফুয়েন্তেস

জানুয়ারি ২০, ২০১৫।

——————————— 

১। ঘটোনা ঘটার সাথে সাথে যে প্রতিক্রিয়া আমরা কোরি, মোস্তৃষ্কের স্বাভাবিক গতী অনুযায়ী সে প্রতিক্রিয়ায় যুক্তির চেয়ে বেশি কাজ করে আবেগ। কিন্তু একজন লেখোক হিসেবে এই সাধারণ মস্তৃষ্কগতীকে ব্যাহত করাটা নিজের অন্যতম আজ বলে মনে করি আমি।
ঘটোনা ঘোটবে। কিন্তু সাথে সাথেই সেটার পক্ষে, বিপক্ষে, নিরোপক্ষে লেখার চাইতে বরং আসোল কাজ ঘটোনাটি নিয়ে চিন্তা করা। ক্যানো ঘোটলো, কিভাবে ঘোটলো, এর পিছনে কার্যোকারণ বা ইতিহাসটা কি, ভোবিষ্যতে এর প্রভাবই বা কি হবে?
কেবলমাত্রো স্থিরচিত্তে এসব ভাবার পরেই কেউ ঘটোনাটা নিয়ে মতামত দেবার সক্ষমোতা অর্জন করেন। এই সক্ষোমতা অর্জনের আগ পর্যন্ত সবাই আমজনতা। আপনি, আমি, তুমি, সে, তারা। কিছু লিখে ফেললেই লেখক হওয়া যায়না।

২। “তোমার সাথে থাকা, আর তোমার সাথে না থাকা। এই দিয়েই আমি সময় পরিমাপ করি।” kiki emoticon

(কথাটি মহান গল্পকার হোর্হে লুই বোর্হেসের থেকে ধার করিলাম)

জানুয়ারি ১৫, ২০১৫।

——————————– 

ইসরায়েল যখন হামলা করে নিরিহ ফিলিস্তিনিদের উপর, নিরপরাধ নারী ও শিশু মারা যায়, সেটা মানবতার চুড়ান্ত অবমাননা। আমার যায়গা থেকে আমি প্রতিবাদ করি, কে কি করবে আমার দেখার বিষয় না। একই ভাবে আই,এস,আই,এস যা করে বেড়াচ্ছে কিংবা অজ্ঞাত জঙ্গি গোষ্ঠি নিরপরাধে মানুষ কতল করছে ধর্মের দোহাই দিয়ে, সেটাকে একজন মানুষ হিসেবে কেন আমি ঘৃণা করবোনা? বিভাজন পশ্চিমারা করেছে, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরাকের মুসলিমরা তাদের কাছে মানুষ না। কিন্তু তাই বলে আমরা সেটা কেন করবো?

হত্যা কখনও সমাধান না। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়না। কারণ প্রতিশোধ শুধু প্রতিশোধ প্রবণতাকেই বাড়িয়ে দেয়। বুদ্ধিবৃত্তিক একটা পৃথিবী আছে অস্ত্রের বাইরে। এই যুগটায় ওই পৃথিবীর দখল নিতে হবে বুদ্ধি দিয়েই। অস্ত্র দিয়ে না। এইটা যতদিন মাথায় না ঢুকছে, ততোদিন আমাদের মুক্তি নেই।
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর অর্থ এই না যে- বিনা বিচারেই মানুষ হত্যা করো।

জানুয়ারি ১৩, ২০১৫।

———————————-

হামলা হবে, এমন আশংকার পর জার্মানির একটা পত্রিকা অফিসে ফিরসে হামলা হইলো। কারণ এই পত্রিকা ওই ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন পূনর্মুদ্রণ করেছিলো। ওরা খাজনা দেবেনা, কারণ একদল বাজনা বাজাবে, নাচবে। পৃথিবী ক্লান্ত হয় নাটক দেখতে দেখতে, মানুষ ক্লান্ত হয়না।
সেলুলয়েডের দিন ফুরুলো। অবশ্য এই বাস্তব সিনেমা নিয়ে আগামি বছরেই একটা ফিচার ফিল্ম তৈরী করবেনা হলিউড, কে গ্যারান্টি দিচ্ছে?

জানুয়ারি ১১, ২০১৫।

————————————-

যারা হত্যা করে, তারা আদতে কোনো ধর্মের ভিতরেই পড়েনা। যেভাবে মুসলিম নামধারী জঙ্গিরা খুনি, ঠিক তেমন ভাবে ইসরায়েলি আর আমেরিকান জান্তা, ফিলিস্তিনে কিংবা ইরাকে শান্তি রক্ষার নামে মানুষ হত্যা করেছে, এরাও খুনী।
খুনীদের কোনো ধর্ম নেই। অথচ মজার ব্যাপার একদল বেয়াপক জ্ঞেনী বঙ্গপুঙ্গব সমানে মুসলমানদের গালি দিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সে কার্টুনিস্ট হত্যার সাথে আমি তো এই গেল বছরে অকারণ নিহত ফিলিস্তিনি হত্যার কোন পার্থক্য দেখিনা। মরছে তো আসলে মানবতা, মানুষের সর্বাত্তক স্বাধীনতা!
জঙ্গিবাদ আর ইসলাম এক বস্তু নয়। এসব মহামানবের গোবরভরা মস্তৃষ্কে কথাটা আদৌ কখনো ঢুকবে?

জানুয়ারি ০৯, ২০১৫।

———————————

শখে কিছু লিখলাম, বই বের করে ফেললাম। বন্ধুবান্ধব জিজ্ঞেস করলে বললাম- ওই শখে টখে লিখি। সিরিয়াস কিছুনা…
এই শখের লেখকে দেশ ভরে গেছে। এরা কি বুঝতে পারে, লোকের সামনে শখের লেখক পরিচয় দিয়ে নিজের ওই স্বত্তাটাকে অপমান করছে তারা?
লেখালেখির জন্য নিজের লেখকস্বত্তাকে নিয়ে যেতে হয় চর্চার পথে। সাহিত্য বাতাসে হয়না। ভাবুন তো, কেউ বই কিনে পড়ছেনা (শখের লেখকরা নিজের বই ছাড়া অন্যের বই কমই পড়েন), আর বছর বছর বই প্রকাশ করে গোডাউন হামার হচ্ছে।
উহ! এরচেয়ে দুঃসহ আর কি হতে পারে দেশের সাহিত্যের জন্য?

০৯ জানুয়ারি, ২০১৫।

————————————-

সব বাস উঠাইয়া ফালাইতাসে। আমি অফিস যামু কি দিয়া?
ফিলিং নস্টালজিক। শ্রদ্ধেয় আবুল খায়েরের সেই ঐটিহাসিক বিটিভি বিজ্ঞাপন মনে পড়ছে।
“সব গাছ কাইটা ফালাইতাসে, আমি ওষুধ বানামু কি দিয়া?”

০৬ জানুয়ারি, ২০১৫।

——————————

৫ জানুয়ারির মধ্যে সুন্দরবনের শ্যালা নৌরুট খুলে দেওয়া না হলে নৌধর্মঘট করবে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। আহা! আপনারা কেনো অযথা কষ্ট করতে চাচ্ছেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রী গং এর পক্ষে নাহয় আমরা সাধারণ জনগণই দাবি তুলবো- “সুন্দরবন জ্বালিয়ে দেওয়া হোক”। প্রয়োজনে ধর্মঘটেও অংশ নেবো।

জানুয়ারি ০২, ২০১৫।

——————————–

সঙ্গিত মাদকের মতো। মারিজুয়ানার ঘোরের চেয়েও ভয়াবহ ঘোর কিংবা মাদকতা সঙ্গিত বহন করে। নেই দেশের যে নেই শাষক ছিলেন, তিনি বললেন আমার দেশে যেকোনো ধরণের মাদকদ্রব্য প্রোহিবিটেড। তাই তিনি সেইখানে সঙ্গিত নিষিদ্ধ করলেন।

তারপর একদিন সে দেশের সবাই বোবা হয়ে গেলো।

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৪।

—————————————

গতকাল আমার এক বন্ধু বলছিলো- মানুষ টাকা খরচ কাঁদতে যায়। সিনেমা হলে।
বাস্তবের দুঃখকষ্ট আমাদের তেমন না ছুঁলেও, পর্দার আবেগে আমরাও আবেগী হয়ে উঠি। এর রহস্য কি?

সিনেমা বিষয়ে আমার খুব জ্ঞানী একজন বড় ভাই আছেন। তার কথাটা স্মরণ করছি- দেখো, পশ্চিমা বিশ্ব ফ্যান্টাসির দিকে ঝুঁকেছে। ঝুঁকেছে ধুন্ধুমার একশনে। ক্রনিকলস অফ নার্নিয়ার আজদহা সিংহ আসলানকে দেখে তুমি আবেগী হয়ে যাচ্ছো। ফ্রোজেনের এলসা মরতে বসলে তোমার চোখে জল আসছে। ইভেন বলিউডের রানঝানা সিনেমার ধানুশ যখন গুলি খেয়ে হসপিটালে, তখনও হৃদয় হুহু করে উঠছে।
কিন্তু রাস্তায় মুমূর্ষু কেউ থেঁতলে পড়ে থাকলে তুমি এড়িয়ে যাবে। শীতে মানুষ মরার সংবাদে আহাউহু করবে। কিন্তু কান্না তোমার চোখ থেকে বেরুচ্ছেনা যতক্ষণ নিজের মনে বা দেহে আঁচড় লাগছে।

তাহলে সিনেমা দেখে আমরা কেনো কাঁদো কাঁদো হয়ে যাই? যাই, কারণ বাস্তবের ওইসব ঘটনা থেকে সরে থাকার গোপন অপরাধবোধে ভুগি আমরা। সিনেমা দেখে কাঁদে আমাদের গোপন স্বত্তা। কিন্তু এ পর্যন্তই। যে সমাজ আমাদের ম্যানিপিউলেট করছে, সে সমাজের অদৃশ্য নির্দেশে ওর বেশি করার ক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলি।

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৪।

————————————

৪৩ বছর পার হলো স্বাধীন দেশটার। আজ বিজয়ের ৪৩ বছর পূর্তি। ঠিক কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা আমাদের সকল নিয়ে?
যারা বলে এদেশটা স্বাধীন হয়নি, তারা কোন অবস্থানে বসে এই কথা বলে ভেবে দেখতে হবে।

বিজয় উদযাপন করতে করতেই একদল বলে, দেশে গণমানুষের স্বাধীনতা এখনও আসেনি, আমাদের ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়াটাই এনে দিতে পারে সত্যিকার মুক্তি।

দু’নম্বর দল এখনও বিশ্বাস করে এই দেশে আবার তারা পাকিদের হুকুমত কায়েম করবে। সেইটা হলেই তাদের কাছে দেশটা সত্যিকার স্বাধীন হবে। অবশ্য এই চাওয়ার ছদ্মবেশ তারা নেয় ধর্মের আড়ালে। আর অধিকাংশ বোকা মস্তৃষ্ক গুলিয়ে ফেলে বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম আর জামাতে ইসলাম এক কথা নয়। ৭১কে এরা বলে একটা বিবাদ, ষড়যন্ত্র। তাদের পাকি প্রভুরা যা বলতো ৭১ এর আগে, আজ তারা নানাভাবে সেটাই আওড়ে যায়!

৭১কে কারা প্রোডাক্ট বানিয়ে গুঁড়োদুধ হিসেবে সাপ্লাই দিচ্ছে, কারা চেতনা ভেঙে ব্যাবসা করছে, কারা জনসভায় গোলাম আযমের ছবি টাঙ্গিয়ে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইছে(!!) ওসব ছাইপাশ রেখে প্রশ্ন করা দরকার নিজের কাছে। দেশ বিষয়ে ঠিক কোন অবস্থানে আছেন আপনি? ৭১ প্রসঙ্গে ঠিক কোন জমিনে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি?
নিজের জন্মের ইতিহাস ভুলে গিয়ে, অস্বীকার করে একটা জাতি কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনা। ৪৩তম বিজয়ের দিনে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা যাক বরং। এমহুর্তে দেশের প্রয়োজন আপনাকে। যেমন আপনার প্রয়োজন এদেশের মুক্ত আলো হাওয়া।

মহান বিজয় দিবসে সকল শহীদদের স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়।
বাংলাদেশ তোমাদের ভুলবেনা।

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪।

——————————————

নাহ, আমরা লাঠি নিয়ে পথে নামতে পারছিনা। কাকে মারবো? নিজের মাথাতেও মারা সম্ভব না। আমার দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদের ধুঁকে ধুঁকে মরাটা সহ্য হচ্ছেনা বলেই অস্থির হয়ে উঠি। লাফালাফি কাজ করে ভিতরে ভিতরে।
মানববন্ধন করে কতটুকু লাভ জানিনা। কিন্তু যদি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে, একটু হলেও। কিংবা আমি যেভাবে ভাবছি কিংবা আমরা কিছু, এ দেশের সবাই ঠিক সেই শংকাটা টের পায়?
যার যেটুকু ক্ষমতা, সেটুকু নিয়েই বরং মাঠে নামা যাক।
কাল ১২।৩০ টায় প্রেসক্লাব যাচ্ছি মানববন্ধনে।
বন্ধু, অবন্ধু সবাইকে আহবান। চলে আসুন।

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪।

—————————

১। নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন, ফার্নেস অয়েলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবেনা। এই বিদেশী বিশেষজ্ঞ কারা? মুড়ি খেয়ে কি তারা বিশেষজ্ঞ হয়েছে?
ও আচ্ছা, আপনি ধরে রেখেছেন সারা দেশের মানুষ মুড়ি খায়।

২। বিরোধী দলেরও কি আনন্দ, তারা আবার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এরা কোন দেশের ক্ষমতায় বসতে চায়? বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে দেশ, তারা আছে গদীর চিন্তায়।

৩। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভাইদের নিয়ে ব্যাস্ত। বাঘ নিয়ে তাঁর যতো আগ্রহ, বাঘের বন নিয়ে মনে হয়না ততো দুশ্চিন্তা আছে। নেইকি? আপনি পারেননা কার্যকর কোন ব্যাবস্থা নেওয়ার আদেশ দিতে? নাকি ২০০ শ্রমীক মান্ধাতা পদ্ধতিতে তেল নিংড়াচ্ছে স্পঞ্জ দিয়ে, ওতেই আপনি নিশ্চিন্ত?

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪।

————————————

সুন্দরবন মরছে, আসুন আমরা উদযাপন করি। ধিরে ধিরে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট তার বৈচিত্রে ভরা প্রাণ-প্রাচুর্য্য নিয়ে বিলিন হতে বসেছে, উদযাপন না করলে চলে?
আমাদের মত কানা আযম কেউ তো নেই। নিজের পাতের দইটুকু মিলে গেলেই, আমরা খুশি।
সত্য কথাটা হলো, আমরা এমনই কানা যে নিজের প্লেটটাই আমরা চিনিনা।
সুন্দরবনের ধ্বংশ আর বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় যে এক কথা, আমরা কি ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারি?
না পারিনা। মেরুদন্ডে ক্ষয় শুরু হওয়া একটা জাতি কখনও সেটা বুঝতে পারবেনা। আদতে, পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মরার আগ মুহুর্তে একটা তেলাপোকা যেমন বুঝতে পারেনা সে মরছে, আমরাও বুঝতে পারছিনা।

ডিসেম্বর ১৩, ২০১৪।

—————————–

লেখকের কাছে প্রশ্ন ছিলো- দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কি মত? লেখক খুব বিমর্ষ কন্ঠে নিম্নোক্ত গল্পটা বললেন-
এরোপ্লেন আকাশে উড়ছে। ৫০০০ ফিট উঁচুতে ওঠার পর হঠাৎ হোহো করে হেসে উঠলো পাইলট। যাকে বলে উড়াধুড়া হাসি। কো পাইলট বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো- কি ব্যাপার স্যার? এভাবে হাসছেন যে?
পাইলট হাসি থামিয়ে গম্ভির স্বরে বললো- একটা কথা মনে পড়ছে, আর হাসিতে জান কাহিল হয়ে যাচ্ছে!
কি কথা স্যার?
নগরের পাগলা গারদে পাগল গণনার সময় যখন একজন পাগল কম পড়বে, কি মজাটাই না হবে!

ডিসেম্বর ০৭, ২০১৪।

——————————————–

একজন মানুষ আসলে কখনও নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারেনা। পৃথিবীতে এমন অর্জন সে করতে পারেনা যা নিয়ে গর্ব করা যায়। কেউ নিজেকে মহৎ ভাবলে জেনে রাখুক তার চেয়েও মহৎ লোক জগতে এসেছে এর আগে। বিরাট আবিষ্কার বা শিল্প সৃষ্টি করে কিভাবে আয়েশি দম নেবে কেউ? পৃথিবী তার বুকে আরও মহান সব আবিষ্কার আর শিল্প ধরে রেখেছে। যে জ্ঞানের গরীমা করতে সামনে পা বাড়াচ্ছে লোকে, ওটা শেষ কথা নয়, জগতে প্রতি মুহুর্তে জ্ঞানের নতুন নতুন দরোজা উন্মোচিত হয়।

তবু মানুষ গর্ব করে। পথ দিয়ে হেঁটে গেলে ভাবে, ধুলির পরে তার পদচিহ্নটাই অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। পৃথীবিতে এটাই সবচেয়ে বড় শোক সংবাদ!

নভেম্বর ২৯, ২০১৪।

————————————

বুঝলেন ভাই, এই দেশে একাডেমিক শিক্ষা বন্ধ করার সময় এসে গেছে। কি লাভ ছোটো ছোটো পোলাপাইনগুলারে অযথা পরীক্ষা দিতে পাঠায়া?
মানে?
প্রশ্নপত্র তো অনলাইনে পাওয়া যায় পরীক্ষার আগেই। পোলাপাইনগুলা জীবনের শুরুতেই দুর্নীতি করা শিখতেসে।
হ্যাঁ, ব্যাপারটা ভয়াবহ। কিন্তু উপায় কি?
উপায় নাই। এই জাতির লজ্জাও নাই। বাবা-মা স্ব-প্রনোদিত হয়ে নিজের ছেলে-মেয়ের জন্য প্রশ্নপত্র খুজে বেড়ান। বড় ভাইয়েরা খুজে বেড়ান। যেভাবেই হোক, গোল্ডেন জিপিএ দরকার, নাইলে সমাজে মুখ থাকেনা, বাচ্চাকে নিয়ে গর্ব করা যায়না!

কথাবার্তার এই পর্যায়ে আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। নগরের দেয়ালে দেয়ালে যদি লিখে দিতে পারতাম, নিজে বদলাও বাঘের বাচ্চারা। সিস্টেমের ঘাড়ে দোষ দিচ্ছ মানে তুমি নিজেই সবচেয়ে বড় দোষি। প্রশ্ন ফাঁশ হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লজ্জা নাই, মন্ত্রী বেহায়ার মত গদীতে বসে আছে। ওরা বুরবাক, উনিও। আর তুমি যখন নিজের সন্তান বা ছোটো ভাইয়ের জন্য সেই প্রশ্ন খুজে বেড়াও, তুমি তারচেয়েও বড় বেহায়া, নির্লজ্জ, দুর্নীতিবাজ।

নভেম্বর ২৮, ২০১৪।

———————————–

আমার কাছে কোনোদিনই মনে হয়নি, ভালবাসা আর ঘৃণা একটা মুদ্রার দুপিঠের মতো। ভালবাসা সম্পুর্ণ আলাদা একটা মুদ্রা। ঘৃণা অপর একটা। আমি ভাগ্যবান, আমার কাছে প্রথম মুদ্রাটা আছে।

নভেম্বর ২৭, ২০১৪।

————————————–

জীবনের স্বাভাবিক এক বৃত্ত আছে। যারা সেই চিরচেনা বৃত্ত ভাঙতে পারে, তারা মহাজাগতিক। পৃথিবীটা তাদের কাছে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের যায়গা হয়ে যায়। দুঃখ- বেদনা এঁরা জয় করে। আনন্দও।

নভেম্বর ২০, ২০১৪।

—————————————

হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্যে সবচেয়ে বড় ব্যাপার মনে হয় এটাই- সহজ দু’চার বাক্যে কঠিন কোনো কথা পাঠকের মনে গেঁথে দেওয়া। বাস্তব জীবনে দেখেছি, বহু পাঠক জীবন সম্পর্কে হুমায়ুনিয় দর্শনগুলিকে নিজ জীবনেরও আপ্ত বাক্য হিসেবে ধরে নিয়ে চলেন। চেতন কিংবা অবচেতনে।
এর শুভ-অশুভ দুদিকই আছে। কিন্তু যারা বলেন, হুমায়ুন হালকা, চটুল সাহিত্য লিখেছেন, এই যায়গাটায় তাদের কি বক্তব্য জানতে ইচ্ছে করে খুব।
সময় এসে গেছে। পাঠকের মাঝে হুমায়ুন কতোটা মহাকালিক অবস্থান নেবেন, তার আভাস মেলার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।
একজন হালকা লেখকের হালকা পাঠক হিসেবে নিজেকে বরাবর সৌভাগ্যবান মনে করি আমি। যে বিপুল আগ্রহ নিয়ে ইলিয়াস, বোরহেস কিংবা দস্তয়ভস্কি পড়ি, হালকা হুমায়ুন পড়ার সময় সে আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাঁটা ধরেনা। এই ব্যাপারটা কতটুকু গভীর, ভাবলে মাঝে মাঝেই অবাক হয়ে যাই।
আমাদের একজন হুমায়ুন আহমেদ আছেন!

নভেম্বর ১৩, ২০১৪।

—————————————–

আমার দাদী বলতেন- জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এই তিনটা দিন হলো উৎসবের। পয়লা আর আখেরিটা আনন্দের, মাঝেরটা শোকের। বাজারে হাজার লোকের ভিড়ে বাবা মারা গেলেন, তাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো, আমরা দিশেহারা হয়ে গেলাম। শোকের ব্যাপারটা যে কি, বুঝতে পারলাম না।

বাবা আর নেই, এটা কেমন কথা হতে পারে? সারা বাড়ি কয়েক ঘন্টার মাঝেই লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল, উঠোনের মাঝখানে একটা কাঠের চৌকিতে শাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় ওইতো বাবা পড়ে ছিলেন! তিনি ছিলেন, অথচ আমরা সবাই বলতে লাগলাম তিনি নেই। হ্যাঁ, বাবা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন, তার মুখ অস্বাভাবিক রকমের কালো হয়ে গিয়েছিলো। নিঃশ্বাস নিতে না পারার অক্ষমতা বড় অক্ষমতা, একটা বিশালাকার দেহ নিয়েও বাবা সে অক্ষমতায় কাবু হয়ে পড়ে ছিলেন।
হ্যাঁ, আমাদের বাবা বিশালাকারই ছিলেন, ঝাড়া ছ’ফুট কিংবা তার চেয়েও হয়তো একটু বেশি। সুসাস্থ্যবান বাবার পাশে মাঝারি আকৃতির মাকে চিরদিন মৃয়মানই দেখে এসেছি আমরা, চারপাশের সকল মানুষকেও। সেদিন যার অপেক্ষা ছিলো দূর দুরান্তের স্বজনদের জন্য, কখন তাকে আমরা কবরে নিয়ে যাবো, অপেক্ষা ছিলো সেজন্যেও!
(গল্প- শীতের অপেক্ষা করছিনা)

নভেম্বর ০৮, ২০১৪।

———————————————-

বাবা যেদিন মারা গেলেন, ঠিক তার আঠারো ঘন্টা পরে আমি কেঁদেছিলাম। না, সময়ের হিসেবে কোন গন্ডগোল নেই। বেলা এগারোটা থেকে রাত পার হয়ে ঘড়ির কাঁটা তিনের ঘর ছুঁলে, মাঝখানে ক’ঘন্টা পার হয়? আঠারো ঘন্টাই তো।
ওদিন মঙ্গলবার ছিলো। রোজকার মত বাবা আমার সাথে সকালের নাস্তা করলেন। আলু ভাজিতে বিষের মতো লবণ হয়েছে বলে মায়ের সাথে তুমুল ঝগড়া করলেন। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অন্য আরও অনেক দিনের মত আমি ভেবেছি, বাবা কি কখনও বিষ খেয়ে দেখেছেন? আলুভাজায় লবণ বেশি হলে সেটার স্বাদ বিষের মতো লাগতো কেন তার কাছে?
(গল্প- শীতের অপেক্ষা করছিনা)

নভেম্বর ০৬, ২০১৪।

—————————————————

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের দুদিন আমি কাটিয়ে এসেছি সাভার থেকে। সেজো খালার বাসায়। সেখানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলেও পুরোনো রাজবাড়ির ভগ্নাবশেষের চুড়ায় বসে থাকা যায়। অর্ধেক যে চাঁদের আলোর টের মেলেনা নগরীতে, সেই আধেক চাঁদেও অনুভব করা যায় নরম আলোর মায়াবতী তীব্রতা।
আর হ্যাঁ, সাভার বাজারের রোডটা ধরে ভিতরের হাঁটা দিলে, শেষপ্রান্তে মিলে যায় একটা নদী। রাত বাড়তে থাকলে, যে নদীটাও বাড়তে থাকে।
কচুরি পানায় ছেয়ে থাকা কালো নদী কত কি গল্প করলো আমার সাথে সেই আধেক চাঁদের আলোয়। শুধু নামটাই জানা হলোনা।
বংশী হতে পারে তার নাম, অনুমানে বলা।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কার কি ক্ষতি হলো জানিনা। আমি শুধু অনুভব করেছি, খাঁটি অন্ধকারও কি বেদম প্রাণময় হতে পারে।

নভেম্বর ০৪, ২০১৪।

—————————————————

এক অভিজ্ঞ ফেসবুকিয় পাঠকের সাথে গতরাতে খুব মূল্যবান কথা হয়েছে। ফেসবুক যে লেখক পাঠকের দুরত্ব কমিয়ে দিয়েছে, ব্যাপারটা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। পুলকিতও হলাম। কথাবার্তাগুলো মহা গুরুত্বপূর্ণ বিধায় চুম্বক অংশ নিম্নে পেশ করা গেলো।

ফেসবুকিয় পাঠক- রেজা ভাই, কি অবস্থা?
আমি- অবস্থা ভালো। আপনি কেমন?
ফেসবুকিয় পাঠক- এইতো। আপনার লেখার ব্যাপারে একটু কথা ছিলো।
আমি- আমার লেখা? বলে ফেলেন।
ফেসবুকিয় পাঠক- ভাইয়া, আপনি মাঝে মাঝে খুব বড় বড় পোস্ট দেন। খুব ভালো লাগে আপনার ছোটো বড় সব লেখা।
আমি- লেখা ভালো লাগলে, সেটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়।
ফেসবুকিয় পাঠক- তবে ভাইয়া, ছোটো লেখা হলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়।
আমি- কেন বলুন তো? (মনে মনে বিস্মিত, প্রকাশ করা দুষ্কর)
ফেসবুকিয় পাঠক- মানে লেখা ছোটো হলে সততার সাথে লাইক দেয়া যায়।

কথোপকথনের ধকল শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ভেবেছি, ফেবু লাইকও কৌতুকে দাঁড়িয়েছে। মন্দ কি? সব কিছুতেই বিনোদন। মার্ক জুকার বার্গকে এমন এক অভিনন্দন, যা কখনই তার কাছে পৌছুবেনা। তবু জুকার বার্গ, লাইক ইউ। লুল 😛 …

অক্টোবর ২১, ২০১৪।

————————————————-

দশজন ভাল মানুষের সাথে দুজন মন্দ মানুষ মিশলে, তাদের পরিবর্তন হয় উল্টো রকম। ভালোরা মন্দে বদলে যায়। কারণ মানুষের মনের গভীরে অশুভের দৌরাত্মই বেশি। একজন অশুভ বিপুল ক্ষমতা নিয়ে তার চারপাশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ কারণেই যুগে যুগে অসংখ্য ধর্মপুরুষ জগত আলো করতে আসলেও, সে অসংখ্যের শত্রু মূলত একজনই ছিল। শয়তান!
(গল্প- কয়েকখন্ড কাঁচ)

অক্টোবর ১৯, ২০১৪।

————————————————————

রুদ্র আজ বেঁচে থাকলে কী বিষন্ন ব্যাপার হতো!
বাতাসে লাশের গন্ধ আরও বেড়েছে, সাথে যোগ হয়েছে এক ঝড়- যে  ঝড়ে বাংলার জনপদের পর জনপদ পরিণত হচ্ছে নিখাদ জড় বস্তুতে, হৃদয়ের বদলে অনুভূতিগুলো যায়গা নিয়েছে মুখে আর এই ফেসবুকের ওয়ালে! রুদ্র তবু বেঁচেই আছে, সব কথা শেষ হবার পরেও সে চলে যায়নি। এইযে তাকে ভাবছি, লিখছি খারাপ আছি তবু ভালো থাকার চিঠি, এও কি বেঁচে থাকা নয়?

শুভ জন্মদিন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ; কবিদের যুবরাজ।

অক্টোবর ১৬, ২০১৪।

—————————————–

“দর্পণে আপনার মুখ কদর্য দেখে কোন বুদ্ধিমানই আরশিখানি ভেঙে ফেলেন না বরং যাতে ক্রমে ভালো দেখায় তারই তদবির করে থাকেন।”
হুতোম প্যাঁচার নকশার ভূমিকায় কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)

অক্টোবর ১৫, ২০১৪।

———————————–

প্রলয় সিনেমার ঐ দৃশ্যটা মনে আছে?
বাসের ভিড়ে বিনোদ বাবু যখন দুই ইয়ো যুবককে জিজ্ঞেস করেন- বরুণ বিশ্বাস কে চেনো?
তারা বলে- হু ইজ বরুণ বিশ্বাস?
বিনোদ বাবু হতাশ হয়ে যুবক দুটির পরিহিত টিশার্টের দিকে তাকান। সেখানে চে গুয়েভারার ছবি। তিনি জিজ্ঞেস করেন- চে’কে চেনো তোমরা?
তারা বলে দিস ম্যান ইজ চে। চে গুয়েভারা।
কি করতেন চে? কি ছিলেন তিনি?
চে? পোয়েট্রি লিখতেন, বাইক চালাতেন!

না, আমরা চে’ কে আসলেই চিনি না। টিশার্টে তাকে পরতে পারি। তার মৃত্যুদিনে ফেসবুক ওয়ালে বিপ্লবী টাইপ স্ট্যাটাস লিখতে পারি। কিন্তু বুকের ভিতর নূন্যতম আগ্রহ অনুভব করিনা এটা জানার, আসলেই কি ছিলেন চে? কি ছিলো তার আদর্শ?

অক্টোবর ০৯, ২০১৪

—————————————–

অনুষ্ঠানের নাম ঈদ বিচিত্রা। শুরু হলো একটা মঞ্চ-কৌতুক দিয়ে (সব চরিত্র স্টেজে দাঁড়িয়ে যার যার অংশ একসাথে করতে লাগলো)। এরপর একটি আধুনিক গান। অতঃপর একটি নৃত্য।
আর ধৈর্য্যতে কুলালো না।
একদল গরু বিটিভির দ্বায়িত্বে আছে। (আমি বহুদিনপর বিটিভি দেখে অনুভব করলাম)
ও আচ্ছা, বিটিভি বিজ্ঞাপন কম দেয়!

অক্টোবর ০৮, ২০১৪।

——————————————-

খ্রিষ্টান ধর্মে সরাসরি কনফেশন এবং পাপমোচনের রীতি আছে। অপরাধ করার পর অনুতপ্ত ব্যাক্তি পাপ স্বীকার করলে যিশু সব পাপ শুষে নেন, এমনি তাদের ধর্ম বিশ্বাস। ব্যাপারটা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে বেশ চমৎকার কিছু গল্প লোকের মুখে মুখে ঘোরে। এই গল্পটা পড়ে আমি আর কোন নির্দিষ্ট ধর্মের বেরিকেডে থাকতে পারলাম না।

এক লোক চার্চে এসে ফাদারের কাছে স্বীকার করলো- সে ব্যাভিচার করেছে পরনারীর সাথে। এখন গ্লানী বোধ করছে। পাপমোচন করতে চায়।
ফাদার আকাশ থেকে পড়লেন। কারণ তার নিজেরই গোপন সম্পর্ক ছিলো শহরের নামকরা সুন্দরী কিছু নারীর সাথে। কন্ঠে শংকা নিয়ে তিনি জানতে চাইলেন- তুমি কি লর্ড জিমের স্ত্রী ম্যারি ব্রাউনের সাথে ব্যাভিচার করেছো?

লোকটা বলল- না। কিন্তু কার সাথে করেছি, আপনাকে আমি বলবোনা ফাদার।

ভালো। তুমি কি তাহলে ঠিকাদার ক্যারনের মেয়ে সিলভিয়া স্মিথ এর সাথে ঘুমিয়েছো?

না। কিন্তু কার সাথে শুয়েছি, আমি বলতে বাধ্য নই ফাদার। আমি শুধু প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। আমাকে রক্ষা করুন।

ফাদার হাঁপ ছেড়ে বললেন- অবশ্যই তুমি ক্ষমা পাবে বৎস। যেহেতু তুমি ইশ্বরের সামনে পাপ স্বীকার করেছো, তিনি তোমার সমস্ত পাপ শুষে নেবেন।

চার্চ থেকে খুশি মনে বেরুতেই লোকটাকে তার বন্ধু জিজ্ঞেস করলো- তুই কি ক্ষমা পেয়েছিস?
লোকটা একগাল হেসে বলল- ক্ষমা? ওটা তো পেয়েছিই। সাথে দুই সুন্দরী নারীর সন্ধানও পেয়েছি!

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪।

—————————————

চারপাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা একজন সুপ্রিম লিডার পেয়েছি। বাংলাদেশ অবশেষে ধন্য হয়েছে। সুপ্রিম লীডার যাই করেন-
১. চেতনা জনিত আবেগের দৃঢ়তরো ব্যাবহার
২. একদিন নিজেরাও সেই কাজ করা যে কাজ করতে গিয়ে অন্য আরেকটি দল আজ সবার থুথু পেয়ে গর্বিত
৩. “জনগণ মাথা পেতে রেখেছে, কাঁঠাল ভাঙ্গো” নীতি বুকে ধারণ করেন
৪. সব কর্মের (বেশির ভাগই অপঃ) জন্য শক্তিশালী এবং অমোচনীয় লজিক- আমিই সুপ্রিম
৫. দুর্নীতি বলে কোনো শব্দ দেশে নেই, সব কিছুই মিডিয়ার কন্ট্রোভার্সি
৬. বিপক্ষে কেউ কিছু বললেই সে নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা ও ৭১ পরিপন্থি

সাচা ব্যারন কোহেনের “দ্যা ডিকটেটর” দেখে ইদানিং আর পুলকিত হইনা, বাস্তবে যে বাংলাদেশ ওয়াদিয়াতে পরিনত হচ্ছে, সেটি বুঝতে পারেন যারা তারা নিশ্চয় আমার মতো দুঃস্বপ্ন দেখেন প্রায়ই।
সুপ্রিম লিডার, আপনার সুপ্রিমেসির শুভদিক উদিতো হোক, হবেকি?

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৪।

—————————————–

এবার খুলনা এসে বিচিত্র সব ব্যাপার হচ্ছে। পরপর ৫টা ভোর দেখলাম! ভোর হতে দেখা জগতের সবচে আনন্দময় ঘটনাগুলোর একটা। অথচ দীর্ঘদিনই তো এমন হয়েছে, নিতান্ত দরকার ছাড়া সকালে আমি উঠিনি, সারা রোজার মাসেই অধিকাংশ দিন ঘুমিয়ে পড়েছি আলো ফুটবার আগে!

ভোরবেলার একটা পবিত্রতা আছে। ভৈরব নদীর এ শেষ মাথার তীরে দাড়িয়ে অবাক হয়ে দেখি নদীটাও ঘুমাচ্ছে। তার বুকে স্রোত নেই, দুরের নৌকা ঘাটে দুটো ট্রলার ছাড়া চলমান কোনো নৌকাও নেই! নদীর ঘুম ভাঙ্গা দেখে বাসায় ফিরতে ফিরতে আলো ফুটেছে চারদিক বেশ। মা ঘুম ভেঙ্গে আমাকে দেখে বিস্মিত স্বরে বল্লেন- তুই?
আমি নিজেও বিস্মিত, এই আকালের যুগে মুহূর্তের জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতে পারা কম আনন্দের না।

নিজের গ্রামে আসলেই আমি শৈশবের ঘ্রাণ পাই, যেমন পাই জীবন আর মরণের ঘ্রাণ!

জুলাই ৩০, ২০১৪।

—————————————–

মানবতার রাস্তা একটাই। এ পথের পথিকেরা কেউ সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়, কেউ সাইকেলে কিংবা মোটোরবাইকে!
পশুত্বের রাস্তাও একটা ! দুঃখের বিষয় এই রাস্তায় যারা চলে, তাদের গতীতে ভিন্নতা নেই। চিরকাল রকেটের গতীতে এরা তাদের পশুত্ব জাহির করতে থাকে!

অগাস্ট ০৪, ২০১৪।

———————————

নিজের টাকায় আমি প্রথম যে গল্পের বইটা কিনি, তার নাম ‘হাসির রাজা গোপাল ভাড়’, ঈদ সালামীর টাকা দিয়ে কিনেছিলাম, দাম নিয়েছিল ৫ টাকা। বিটিভি’র আলিফ লাইলা যুগ চলছে তখন; আমার মতো ছেলেপিলেরা সে ঈদে একটা বস্তু খুব কিনছে, সোলেমানি তরোবারি! আমি সে অলৌকিক খেলনা কিনতে দোকানে গিয়ে গোপাল ভাড় হাতে বাসায় ফিরলাম; মুখে রাজ্য জয়ের হাসি!
১৮ বছর আগের কথা বলছিলাম। এখনকার গল্প করি।
৮ বছর বয়সি ছোটো বোন আর ছোটো ভাই সন্ধ্যা বেলাতে এসে খুব নম্র কন্ঠে তাদের একটা দাবি পেশ করলো। দাবি হলো তাদের একটা ঠাকুমার ঝুলি বড়ই দরকার। তবে বই না, তাদের দরকার ডিভিডি। ওতে নাকি ঠাকুমার ঝুলির ৮০টা কার্টুন আছে!
ওদের জন্য ডিভিডি কিনতে গিয়ে অদ্ভুত এক আনন্দে আপ্লুত হলাম। নাহ, রুপকথার মায়াবি জগত আমার অনুজদের থেকে বিদায় নিয়েছে কই?
শিশুদের, এ দুনিয়ার সব শিশুদের জন্য তো মঙ্গলময়ের দরবারে এই প্রার্থনাই করি, হে কল্যাণের অধিস্বর জগতের সব অবুঝ আর পবিত্র অন্তরগুলির প্রতিটিদিন রুপকথার মতো মায়াবী করে দাও!

জুলাই ২৮, ২০১৪।

——————————–

দুদিন ধরে অনেকেই তাদের ওয়ালে হ্যাশট্যাগ দিয়ে সাপোর্ট গাজা লিখছেন। কিছু অতি আগ্রহিরা ব্যাপারটাকে আতলামি বলা শুরু করেছেন। অনেকে আবার নৈরাশ্যবাদি, তাদের মতে ফেসবুকে এইসব লিখে গাজায় জেনোসাইড কচুটা বন্ধ হবে, ইসরাইলের এতে বা.. ছেড়া যাবে!
তাদের বলছি, এদেশের ১৬ কোটি লোকের মাঝে যদি ৫০ লক্ষ লোক এমন লেখে, সেটি ফেসবুকে বহুল প্রচারিত একটা বিষয় হয়ে উঠবে, আন্তর্জাতিক অনলাইন মিডিয়াতে আমাদের প্রতিবাদটা সবার সামনে আসবে, জোরালোভাবেই!

ভোগবাদ, অমানবিকতা, স্বার্থপরতা আর অন্ধত্বের যুগে এই প্রতিবাদটুকুও করতে যাদের চুলকায়, তারা অন্তত এইবেলা চুপ করুন..
অতি প্রতিক্রিয়াশীলদের জন্য লানত!

জুলাই ২৬, ২০১৪।

————————

লেখক কে?
লেখক আসলে ঐ লোকটা, যিনি তার সামনে দাঁড়ানো লোকটার চিন্তায় ডুব দেবার ক্ষমতা রাখেন। নিজে গল্পের আধার না হলে অন্যকে গল্প শোনানো সম্ভব নয়। আর গল্পের আধার হবার জন্য লেখকেরা প্রকৃতি প্রদত্তভাবেই দুটি খাড়া এবং বড় কান নিয়ে জগতে আসেন। প্রাণভরে মানুষের বিচিত্র গল্প শুনতে শুনতেই জীবন আর জগৎকে দেখার দিব্য দৃষ্টি লাভ করেন তারা। পৃথিবীর প্রতিটি লেখককেই আজন্ম খুব ভালো শ্রোতা হতে হয়েছে, হচ্ছে, হবে।
নিজের চিন্তা সামনে দাঁড়ানো লোকটার উপর চাপিয়ে দেওয়া লেখকের কাজ নয়, এটা বক্তার কাজ। লেখকেরাও বক্তা, কিন্তু আমি বলছি আক্ষরিক বক্তাদের কথা।

জুলাই ২৩, ২০১৪।

———————-

এখনও মাঝেমধ্যে কোন রোদজ্বলা দুপুরে এ নগরীর অনেক মানুষের দৃষ্টি ঘোর লাগা হয়ে যায়। হলুদ পাঞ্জাবি পরে উদ্ভ্রান্তের মতো হেঁটে যেতে থাকা হিমুকে দেখতে পায় তারা। কোন উদাসী যুবক রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ এক দোতলা বাড়ির ব্যালকনীর দিকে চেয়ে অবাক হয়ে ভাবে- নীলরঙা শাড়ীপরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই রুপবতী মেয়েটি রুপা না?
মধ্যরাতে জানালার ওপাশে কারো নিঃশাস নেবার ভারি শব্দে আতংকিত প্রৌঢ় লোকটি ভাবেন, সকালে উঠে মিসির আলীর কাছে যেতে পারলে হত। তিনি ব্যপারটার একটা অসাধারণ সমাধান দিতে পারতেন! বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কোন তরুণির দেখা হয়ে যায় ভারি ফ্রেমের চশমা পরা শুভ্র’র সঙ্গে।
আর পত্রিকার ই-মেল এড্রেসে কবিতার পর কবিতা মেল করতে করতে ক্লান্ত, কবি হবার স্বপ্নে বিভোর এক যুবক ভাবে, কবি আতাহারকে যদি পাওয়া যেত সামনে! বুকভর্তি হতাশার ঝোলাটা কতইনা হালকা হয়ে যেত তার!
প্রতিবর্ষায় আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে। কদমগাছগুলি ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় তখন। ভরা পুর্ণিমারাতে আকাশ ভেঙ্গে নামে জোছনার ফোয়ারা। প্রিয় হুমায়ুন দুরথেকে এসব দৃশ্য দেখতে পান কিনা সেটি কারোরই জানার এখতিয়ার নেই। কিন্তু সেই বর্ষার জলে আর জোছনায় ভিজতে ভিজতে এ জগতের অসংখ্য মানুষ-মানুষীরা সময়ের প্রতিটি মুহুর্তেই কেউনা কেউ গভীর আবেগে বলতে থাকে- তোমাদের জন্য ভালবাসা!

প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ, ভাল থাকুন সেই সুদুরলোকে। ভালবাসা!

১৯ জুলাই, ২০১৪।

——————————

মানবতা যদি পৃথিবীর শেষ কথা হত, ইহুদিরা পৃথিবীতে বাস করার অধিকার হারাত।

১৩ জুলাই, ২০১৪।

———————————–

ফুটবলকে তুমি যা দিয়েছো, সেই পাওয়া আমাদেরও.. আমাদের প্রজন্মের সৌভাগ্য, আমরা তোমাকে খেলতে দেখেছি। বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল তোমার পায়েই ঝরেছে, ঝরুক, ঝরবে..
লিও, তোমার জন্য ভালবাসা!
আর্জেন্টিনা, রাশিয়ায় দেখা হবে আবার.. সাথে আছি!

১৪ জুলাই, ২০১৪।

———————————————-

১. সাকিব আল হাসান, আপনি বাংলাদেশের যোগ্য নন। ভুল দেশে আপনার জন্ম হয়েছে!

২. বঙ্গদেশীরা তালিয়া বাজান। পাশের বাড়ির গুণী লোকটির কদর আপনারা দিতে জানেননা, অথচ বড় গলায় বলেন এদেশকে কতই না ভালবাসেন! থুথু দিলাম আসমানে, আমাদের সবার উপর থুথু পড়ুক..

৩. সময়োপযোগি দুর্দান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবি ও পাপন, আপনাদের একুশে পদক দেওয়া হবে, অপেক্ষা করুন। এদেশের ফুটবল আপনাদের মত মহিথরদের যে মহান কর্মযজ্ঞে বিনষ্ট হয়েছে, আশা করি ক্রিকেটও বিলুপ্ত হবে, অতি শিঘ্রই।

০৭ই জুলাই, ২০১৪।

————————————-

ইবানে হাকাম আল বুখারি। পেনট্রিথের জাহাজঘাটে যখন তিনি নামলেন তখন দুপুর। তার সাথে জাহাজ থেকে নামলো রৌদ্রবরণ এক বিরাটাকার সিংহ, আর রাত্রির মতো কালো এক কৃতদাস।

তিনি পাহাড়ের মাথায় একটি গোলকধাঁধা নির্মাণ করতে চান, লালরঙা এক গোলকধাঁধা। কারণ তাকে খুন করতে এগিয়ে আসছে এমন এক খুনি, যাকে তিনি নিজহাতে খুন করেছিলেন। এক ভ্রান্তিময় গোলকধাঁধা তার দরকার, যাতে খুনী দিশা হারিয়ে তাকে খুন করতে ব্যার্থ হয়!
তারপর কি হল? মৃত খুনীর হাতেই কি মারা যাবেন ইবনে হাকাম আল বুখারি? তার গোলকধাঁধাটি কি পারবে তাকে রক্ষা করতে?

——————
ইবেন হাকাম আল-বুখারি – ডেড ইন হিজ ল্যাবারিন্থ

-হোর্হে লুই বোর্হেস

——————————————-

আপনার দাঁতে ব্যাথা হলে প্রথমে আপনি অসম্ভব যন্ত্রণা টের পাবেন, পেতে পেতে এক পর্যায়ে কিন্তু আপনি ওই অসম্ভব যন্ত্রণা থেকেই আনন্দ খুঁজে পাবেন!
-ফিওদর দস্তেভয়েস্কি

১৯ জুন, ২০১৪।

——————————–

আর দশ বারো ঘন্টা পর শুরু হয়ে যাবে দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। সেই ফুটবল জ্বরের পূর্ব লক্ষণ হিসেবেই হয়তো গায়ের টেমপারেচার বেড়ে ১০২ হয়ে গিয়েছিল গতরাতে! সে যাক, জ্বর আসছে আর যাচ্ছে, ১৬ তারিখের আগে সেরে গেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

১৬ তারিখ থেকে আর্জেন্টিনার খেলা কিনা! আর্জেন্টিনার প্রতি আমার নিখাদ প্রেম। বার বার দুঃখ দিয়ে গেলেও এই প্রেম ফুরাবে নাকি? ফুরাবে না.. এইবারও কোমর বেঁধে খেলা দেখতে বসে যাবো.. বাবারা এইবার যদি দুঃখ ঘুচাইতে পারে!

পতেকা নিয়ে এইবার দেশ প্রেম দেশ প্রেমের ঝড় চলছে খুব বেশি। যশোরে শুনলাম সব বৈদেশি পতেকা নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। তবে দুঃখের বিষয়, ওইসব বৈদেশি পতেকা মানুষের বুকের গভীরে পতপত করে উড়ছে, এই উড়াউড়িতে স্বদেশের প্রতি টান নষ্ট হবে, এমনটা আমি বিশ্বাস করিনা।

১১ই জুন, ২০১৪।

———————————

গল্পটা পায়ের।
এক লোকের পা হারিয়ে গেল এক ভোরবেলা। (আচ্ছা, পুরো গল্প না শুনে দম ফেলা নিষেধ!)
তো ওই লোকের পা হারানোর গল্পটা এমন- ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে ভাবলো রাস্তায় বেরিয়ে হাঁটা যাক মিনিট বিশেক। না। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তার পা ভেঙ্গেছে ভাবলে ভুল করবেন।
আসলে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার ক্রাচটা ভেঙ্গে গেল। পঙ্গু লোকটির বাঁ পাটা কোনদিনই ছিলোনা। তাই ক্রাচটাই ছিলো তার ডান পা। এমন লোকের ক্রাচ ভেঙ্গে যাওয়া মানে তো পা হারানোই!

নোটঃ মোরাল ফোরাল বলে কিছু বাতাসে নেই। এই গল্পটি তাই মোরালহীন। তবে কিছু একটা এই গল্পে আছে। বোকারা বুঝতে পারবেন। :p

২৭ মে, ২০১৪।

—————————————————-

আজ জাতীয় কলা দিবস। স্কুল শেষ করা দেশের ১৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রিদের কলা দেওয়া হচ্ছে..

১৭ মে, ২০১৪।

——————————————

আজকে কেউ গুম হয়েছে? না হলেই অস্থির লাগে…

১লা মে, ২০১৪।

—————————-

বিস্মৃতির গভীর অন্ধকার আমাদের সবার জন্য অপেক্ষা করে। ভুলে যাওয়ার যে বিপুল জগত, সেখানে কোন আলো নেই।

২৯ এপ্রিল, ২০১৪।

——————————

গরমের সুবিধা লিমিট ক্রস। প্রতি দুপুরে শরীর তার সহ্য সীমার বাইরে চলে যায়। ওই মুহুর্তে কোন রকম অনুভূতি কাজ করেনা। গরম টরম একটা ফালতু ব্যপার হয়ে যায়!

(এই গ্রিষ্মে ঢাকা শহরের পাগলগুলোর কি খবর কে যানে। গ্রিষ্মে পাগলদেরও সুবিধা। ওদের তো আর কাপড় পরার চিন্তা নেই!)

১৭ এপ্রিল, ২০১৪।

——————————–

আজ বিকেলে বিজয় স্মরণি পার হবার সময় দেখলাম বিশাল এক পর্দা টানিয়ে খেলা দেখতে বসেছে অনেক মানুষ। পাকি বনাম ইন্ডি’র ম্যাচ। সারা শহরে কি বিপুল উত্তেজনা!
বটে! খেলাধুলা সব কিছুরই উর্দ্ধে। পাকি প্রেমী এক ব্যাক্তিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার এই প্রেমের হেতু কি? ওই ব্যক্তি আবেগে গদগদ হয়ে জবাব দিয়েছিলেন, আরে মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই না? ওরা তো আমার মুসলিম ভাই! হাহ! এমনই ভাই, ৭১ এর নৃশংস গণহত্যাকারি যে ভাইয়েরা আজ বলে সব ভুলে যেতে। ক্ষমা চাওয়া নাকি বাতুলতা?

এ চিত্র বড় হতাশার। এদেশের দীর্ঘাংশই আজ ৭১ ভুলতে বসেছে। খেলার দোহাই দিয়ে এদেশের অনেক মেয়ে আজও বলে, আফ্রিদি ম্যারি মি! আফ্রিদির পূর্ব পুরুষেরা কিন্তু বিয়ে থার চেয়ে ধর্ষণই পছন্দ করতো! আমি চাইবো, এই মেয়েগুলি বরং বলুক আফ্রিদি- রেইপ মি! (এ প্রজন্মকে বলছি শুনুন, একজন সত্যিকার দেশপ্রেমি বাঙ্গালির ৭১ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাই রাখা উচিত। নতুবা আমি তাকে বলবো তার দেশজ পরিচয়ে কোন ঘাপলা আছে)

**অফ টপিকঃ ইন্ডিদের নিয়ে কি বলবো! তারাও আমাদের উপর নানান ভাবে মুলী বাঁশ ব্যবহার করছে। পাকিদের গণহত্যা নৃশংসতার কথা বললেই যারা ইন্ডিয়ার উদাহরণ টানে, তাদের বলছি আপনার মাথায়, হ্যাঁ আপনার মাথায় গোবর ভরা। আপনি বুরবাক!
আমরা শত্রু চিনি। কিন্তু যে শত্রু আমার ৩০ লক্ষ্য ভাই-বোনের লাশ দিয়ে পাহাড় বানিয়েছে, তাদের সাথে আপোষ কোনদিন নয়, তাদের জন্য পাপোষ! সে খেলায় হোক, মেলায় হোক, কি রাজপথে।

২৪ মার্চ, ২০১৪।

———————————————–

সোনার বাংলা গেয়ে রেকর্ড গড়ার চেয়ে বরং একজন ছাত্র তার পাঠে একনিষ্ঠ হোক। একজন শিল্পী নিবিষ্ট হোক নতুন চিত্রকলায়। একজন মানুষ মন দিক তার পাশের মানুষটির ভালমন্দ চিন্তায়।
দেশের প্রতিটা মানুষ নিজেকে প্রবোধ দিতে শিখুক, অন্যের তুলনায় বরং আমি ভাল আছি। আমার অভাবের চেয়ে অন্যের অভাব বেশি!

রাস্তায় কেউ পড়ে গিয়ে পা মচকালে আমরা আর কতদিন বলবো- ভাই দেখে পথ চলতে পারলেন না?

ভ্রান্তির পিছনে আর কতকাল দৌড়ানো যায়? বাবা আদম, একবার এ বঙ্গভূমে চলে আসবে টাইম মেশিনে চড়ে? তোমার উত্তরাধিকারের এই অদম্য অংশ কি বিপুল বিক্রমেই না ভ্রান্তির চর্চা করে যাচ্ছে!
এই পৃথিবী উষর থেকে সুজলা সুফলা হয়েছে মানুষের শুভ বুদ্ধির জন্য। তুমি এসে তাদের বলে যাবে? বুদ্ধিরও কোন একদিন শুভদিক ছিল!

মার্চ ২১,  ২০১৪।

——————————————–

এনাক্সিম্যান্ডার ভাবতেন, মানুষ সহ জগতের অন্যান্য সব প্রাণীকূলের সৃষ্টী হয়েছে মাছ থেকে! তবে মানুষ উদ্ভূত হয়েছে বিশেষ এক প্রকার মাছ থেকে।

-মহান তিনজন মাইলেসীয় দার্শনীকদের একজন এনাক্সিম্যান্ডার

মার্চ ১, ২০১৪।

——————————————–

জাঁকিয়ে শীত পড়েছে সারাদেশে। কিছু প্রাণ এখন সেও নিয়ে যাবে।
কেউ ভাববে পিঠা উৎসবের কথা, রাতজেগে চলবে বনফায়ার। আর একদল দৌড়ুবে শীতে জর্জর দুঃস্থ মানুষগুলিকে একটু উষ্ণতা দেওয়ার জন্যে। শীতের প্রকোপে চাদর গায়ে জড়িয়ে গল্পকার লিখবেন তার সময়ের শ্রেষ্ঠ গল্পটি। কবি লিখবেন অঘ্রাণের কবিতা। সুমধুর সঙ্গিত নিত্য তৈরী হবে জগতে……
সবকিছু মিলিয়েই দেশ। আমার বাংলাদেশ। শীত, এই বিভ্রম আর স্বপ্নের দেশে তোমায় স্বাগত………….

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৩।

————————————————————–

আমরা সবাই নিজেদের মাঝে একান্ত এক জগৎ বহন করে চলি। খুব সংগোপনে। যে জগতে আমরা নিজেরা ছাড়া অন্য কারো প্রবেশাধিকার থাকেনা। জীবনের কোন এক প্রান্তে এসে এমন হতে পারে, নিজের সেই একান্ত আর গোপন জগৎটায় আমরা নিজেরাই আর প্রবেশ করতে পারছিনা।
সময়ের ঠিক ওই প্রান্তে গিয়েই আমরা ঝরে যাই জীবন থেকে।

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৩।

———————————————————-

তেহরিক-ই-পাকিস্তান হুমকি দিল!! গণজাগরণ মঞ্চ গিয়েছিল শান্তিপূর্ণ ঘেরাও দিতে। আসলে ঘেরাও দেয়ার কিছুই ছিলনা। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের ঘৃণ্য অবস্থানের প্রতিবাদ করছে জনগণ নিজ থেকেই।
তেহরিক ই ফাকিস্তানের হুমকি মানে কি? তারা মারবে বোমা..
কারণ শান্তি ব্যপারটা ফাকিস্তানের মাঝে নেই। ওরা বোমা বোঝে, নারী ও শিশুহত্যা বোঝে। নাপাকের জাত…

ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩।

—————————————————

দুই বকের গল্পটা মনে পড়লো হঠাৎ।
ওই যে একবার তারা উড়ে যাচ্ছিল এয়ারপোর্টের উপর দিয়ে। বগা অবাক হয়ে বলল- কি বিশাল প্লেন দেখেছিস বগী?
বগী চিন্তিত গলায় বলেছিল তা তো দেখছিই। কিন্তু আমার চিন্তা অন্য যায়গায়। এত বড় প্লেনটায় ওরা রঙ কিভাবে করলো? পুরো প্লেন কি সুন্দর ধবধবে সাদা!
বগা তাচ্ছিলের সুরে বলেছিল- মুর্খ বগী এও বুঝলিনা! ওরা কি আর এত বড় প্লেনে রঙ করে? প্লেন যখন আকাশে ওড়ার সময় ছোট দেখায়, ওরা রঙ করে তখন!

**মোরাল- যত দিন যাচ্ছে, আমরাও ওই গুনী বগার মতো জ্ঞানী!! হয়ে যাচ্ছি।

(রম্যকার তাপস রায়ের সৌজন্যেই এই চমৎকার গল্পটা মনে পড়লো, তাকে ধন্যবাদ)

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৩।

——————————————————

বিজয়ের দুদিন আগে আজকের এই দিনটি তীব্র বেদনার, দুঃখের। ভালবাসা আর গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি জাতির সেই সূর্য্য সন্তানদের…

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৩।

————————————————–

শাহবাগ জেগে উঠেছে বলে খুব আনন্দ লাগছে? আন্দোলনে পথে নেমেছে মানুষ!! কেন আবার নামতে হল? কেন মোল্লা কাদেরের ফাঁসির তারিখ স্থির হবার পর হুট করে এত নাটকিয়ভাবে তা স্থগিত করা হল? এই যে আমাদের মগজ ভাজা হচ্ছে রোজ, এই পিছনে কলকাঠিগুলি নাড়ছে কারা?
এত প্রশ্নের জবাব কে দেবে?
আমরা বারবার প্রমাণ করছি (আমাদের দিয়ে প্রমাণ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত) পুষ্টিকর ঘাসের অভাবে প্রাণসংহারি মুর্খামীতে ভুগছি আমরা!!

ডিসেম্বর ১১, ২০১৩।

———————————————

“আমারান্তা যখন পতন ঠেকানোর জন্য চাদরটি আঁকড়ে ধরেছে, ঠিক তখনি মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে শুরু করে সুন্দরী রেমেদিওস। এমন করেই একদিন তার ভুবনজুড়ে কিংবদন্তি হতেচলা সৌন্দর্য্য নিয়ে মাটি থেকে উপরে উঠতে উঠতে বায়ুমন্ডলে হারিয়ে যায় সে!”

মার্কেসের একশো বছরের নিঃসঙ্গতার একটি লাইন। সুন্দরী রেমেদিওস কে তার অঢেল সৌন্দর্‍য্য নিয়ে এভাবেই হারিয়ে যেতে দিয়েছেন লেখক। অজস্র চরিত্র আর অজস্র ম্যাজিকাল ডিটেইলের ভিড়ে একটি ব্যপারের প্রকটতা প্রতিটা ব্যপারকে আঁধারে ডুবিয়ে দেয়। ডুবিয়ে দেয় পাঠকদেরকেও।

মার্কেজের মুল উদ্দেশ্য হয়তো ছিলো এটাই, তিনি সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন, হাজার লোকের ভিড়েও মানুষ কতোটা নিঃসঙ্গ। শুধু দক্ষিণ আমারিকার এক গ্রাম থেকে শহর হয়ে ওঠা মাকোন্দো কিংবা বুয়েন্দিয়া পরিবারের বয়ে চলতে থাকা প্রজন্মেরা শুধু নয়, মুলত সারা ভুবনব্যপিই মানুষের অস্তিত্বজুড়ে একাকিত্ব আর নিঃসঙ্গতার গান।

মানুষের নিয়তিই নিঃসঙ্গতা!

০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

————————————————-

কিছু কথা জমা থাকুক রাত্রির জন্য, কিছু ঘুম দিবসকে দেয়া যাক। রাত্রি সৃষ্টির সময়….

২৮ নভেম্বর , ২০১৩।

————————————————–

সুখি হবার জন্য আমাদের খুব অল্প কিছু বস্তুর প্রয়োজন। আর সেই অল্পকিছু বস্তুর একটি হল বিশ্বাস। বিশ্বাস এই পৃথীবির জন্মলগ্ন থেকেই বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যপার।

নভেম্বর ১৮, ২০১৩।

———————————————

আজ সারাদিন জেগে জেগে দুচোখ ব্যথা,
রাত্রি নেমে একটুখানি ঘুম যদি দেয়
রাত্রি নেমে দুচোখজুড়ে একটু আঁধার আলো বিলায়,
আমি নাহয় আকাশ দেখি, জনম ধরেই দেখতে রবো?

৯ইসেপ্টেম্বর, ২০১৩

————————————–

হরতালে অগ্নিদগ্ধ মুনীরের মৃত্যুতে আপনাদের কিছু আসে যায়না। বোঝা গেল, এদেশের ১৬ কোটি মুনীর মরলেও আপনাদের কিছুই আসবে যাবেনা, কারণ আপনারা নাকি জনগণের জন্য রাজনীতি করেন…..

১০ই নভেম্বর, ২০১৩

————————————-

উৎসবের মনে হয় একটাই ধর্ম। সে ধর্ম হল আনন্দ। খুব মনে পড়ছে, ছোটবেলায় প্রতিবার দূর্গাপুজা এলে কি মজাটাই না হত। স্কুল বন্ধ পেতাম। আর গ্রামের পুজা মন্ডপটি ঘিরে আমাদের গোটা চন্দনীমহল বাজারটাই যেন সেজে যেত উৎসবের রঙে। রাস্তার দুপাশে অজস্র খাবারের দোকান বসে যেত। বেশির ভাগই মিষ্টি জাতীয়। আর মাটির খেলনার যজ্ঞ লাগতো। পুতুলে আমার আগ্রহ ছিলনা। আমার আগ্রহ ছিল মাটির তৈরী ছোট বড় লঞ্চগুলোতে!

আজ কতদুরে চলে এসেছি শৈশবের সেই গ্রামটি ছেড়ে। ঈদে আমার আজ ছুটি মেলে ঠিক। যবনের ছেলে তাই আর পুজার ছুটিতে গ্রামে যাওয়া হয়না। তবু আগ্রহ কিন্তু আজো মৃত্যুবরণ করেনি। এখনও জানার জন্য ভিতরে খুব আগ্রহ জাগে, দেবীমাতা দুর্গা এবার কোন বাহনে চড়ে এসে ভক্তদের আশীর্বাদ দিয়ে যাবেন? সময় করে একদিন রমনায় কিংবা ঢাকেশ্বরীতে চলে গেলে কেমন হয়?

সমাজ থেকে ধর্ম কখনো বিলুপ্ত হবেনা সম্ভবত এই ব্যপারটির জন্য। ধর্ম আনন্দের উপলক্ষ্যও। শান্তির উপলক্ষ্য।

০৮ই অক্টোবর, ২০১৩

—————————————

পলে পলে দেখা স্বপ্নগুলো গায়ে জমা ধুলোর মতোন.. ঝেড়ে ফেলি, তবু উড়ে এসে আবার গায়ে জড়িয়ে যায়…..

২০শে সেপ্টেম্বর

————————————

তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে।
একটা তালগাছের সন্ধানে আছি। রাজনৈতিকরা বলছেন তাদের কাছে তথ্য আছে। আমার কাছে তথ্য নাই…….

১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

————————————-

ধরা যাক, কারো মৃত্যু হয়নি। যারা তৃপ্তি কিবা অতৃপ্তির বোঝা নিয়ে বায়ুমন্ডলে ভেসে বেড়াচ্ছে-বেড়ায়, জীবিত এক অর্থে তারাও। ধরা যাক নতুন করে কারো কিংবা কোন কিছুর জন্ম হবেনা আর, সব কিছু চক্রাবর্তে এক পুনর্জন্মের সঙ্গিত! জগৎ মৃত্যুময় হলেও আমার কি যায় আসে? আমি জীবনকে ভাবতে পারি…….

১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

————————————-

সন্দেহভাজন খুনী পুলিশি জেরার এক পর্যায়ে স্বীকার গেল- খুনটা সে করেছে। আর যেই লোকটা খুন হয়েছে, খুনের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী লোকটির স্ত্রী ক্লান্ত স্বরে বলল- ডাকাতটি তার স্বামীকে খুন করেনি, তার স্বামীকে খুন করেছে সে নিজেই।

অবশেষে যে লোকটি খুন হয়েছে, বাতাসে তার কন্ঠস্বর বেজে চলল বিষাদিয়া ভায়োলিনের সুরের মতোন। লোকটি বলে চলছিল- কেউ তাকে খুন করেনি। সে আত্মহত্যা করেছে……

– রিউনুসুকে আকুতাগাওয়ার “রাশোমন” থেকে

১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

——————————–

আমাদের জাতীয় সংসদ গণতন্ত্রচর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লুই আই কান ক্ষমতাধর ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ছিলেন বটে। এটি আজ রঙ্গশালা হলেও সৌন্দর্য্যচর্চার একটি নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জাতি হিসেবে আমরা ডাইভার্টেড মননের অধীকারি। শিল্প সৃষ্টির জন্য এদেশে কেউ শীল্পি হয়না, শিক্ষাকে একটু এগিয়ে দেবার জন্য শিক্ষক হওয়া এদেশে বাতুলতা…

৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

———————————

রাতে ঘুমাতে যাবার আগে শুভরাত্রি জানানোর নিয়ম। ঘুমতো একধরণের মৃত্যুই। মানে দাঁড়ালো কি? মৃত্যুর আগে জগতের সবাই একে অন্যকে শুভমৃত্যু জানাচ্ছি প্রতিরাত্রে?

৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

———————————

চায়ের দাম বেড়েছে, চিন্তায় আছি.
রিকশাঅলারা নবাব হয়ে যাচ্ছে, চিন্তায় আছি
চারপাশে সাস্থ্যবান ভিক্ষুকের বিস্ফোরণ, আমি চিন্তায় আছি……
শুল্কবাড়িয়ে দেবার পরেও এ নগরিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্য বাড়ছে,
ভাঙ্গন অঞ্চলের লোকজন শহরে আসছে, এখানে নাকি অনেক খাদ্য?
আর সোসাইটির সবচেয়ে অভাবি লোকটি ৭৪ লাখটাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে ফেলল..
চিন্তার চে আমার বরং নির্বাসন দরকার, সেটি সম্ভব হচ্ছেনা-
ওই অভাবি ৭৪ লাখঅলা লোকদের দলে শরীক হবার চাপ আছে ঘাড়ের উপরে!
আমি চিন্তায় আছি…

৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩।

————————————

2 Replies to “নির্বাচিত স্ট্যাটাস”

  1. আপনার সব স্ট্যাটাস পড়ি , খুবি ভাল লাগে ।। মাঝে মধ্যে অনুমতি না নিয়েই দু , একটা স্ট্যাটাস শেয়ার করি ।। শেয়ার করলে কোন ধরণের সমস্যা আছে কি সেটাও একটু বলবেন ??

    আর যদি আপনার সম্ভব হয় আরও বেশি বেশি স্ট্যাটাস লিখবেন ।।

    অনেক অনেক ধন্যবাদ ।।

    1. আমার নেইম কার্তেসি দিয়ে শেয়ার করলে কোনো সমস্যা নেই। আর যখন স্ট্যাটাস ভাললাগে, ফেসবুকে এ্যাড হয়ে যান। ল্যাঠা চুকে গেলো। আরও সহজে পড়তে পারবেন, শেয়ারও।
      Enamul Reza আমার ফেসবুক আইডি।
      হ্যাপি রিডিং। 🙂

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s